📍 ময়মনসিংহ (ভালুকা) প্রতিনিধি | ০৩ মে ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় (রানিং) মোবাইল সিম হঠাৎ অন্যের নামে স্থানান্তর এবং সেই সিমের মাধ্যমে বিকাশ মার্চেন্ট পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং মোবাইল সিম ও ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভুক্তভোগী রাসেল রানা জানান, সংশ্লিষ্ট সিমগুলো তার মায়ের নামে নিবন্ধিত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তার মা অসুস্থ থাকায় বাসায় থাকেন এবং ব্যবসার লেনদেন তিনি নিজেই পরিচালনা করতেন।
তিনি বলেন, “এই সিমটা আমার মায়ের নামে নেওয়া। মা অসুস্থ, বাসায় থাকে। ব্যবসার কাজের জন্য আমি এই সিম ব্যবহার করি। এই সিমটা অনেকদিন ধরেই রানিং ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই দুইটা সিম ছিল আমাদের ব্যবসার বিকাশ মার্চেন্ট পেমেন্ট সিম। গ্রাহকরা এই নম্বরগুলোতে টাকা দিত। এখানে আমাদের ব্যবসার টাকা, ক্লায়েন্টদের টাকা—সব জমা ছিল।”
⏱️ ঘটনার সময়ক্রম:
ভুক্তভোগীর তথ্য অনুযায়ী—
গত পরশু রাত আনুমানিক ১১টার পর থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার শুরু হয়। সারা রাত ধরে ধারাবাহিকভাবে ট্রান্সফার চলতে থাকে। গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা একটি অজানা নম্বরে পাঠানো হয়েছে।
সন্দেহভাজন নম্বর: 01326010509
ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট সিম দুটি হঠাৎ “Emergency” হয়ে যায়। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে নেটওয়ার্ক সমস্যা মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন এটি স্বাভাবিক নয়।
তিনি বলেন, “আমি ভাবছিলাম হয়তো নেটওয়ার্ক সমস্যা। কিন্তু পরে দেখি টাকা ট্রান্সফার হচ্ছে, আর আমি কিছুই করতে পারতেছি না।”
🔍 সিম রিসাইক্লিং নয়—ভুক্তভোগীর দাবি:
তিনি বলেন, “সিম রিসাইক্লিং হলে আগে সিম বন্ধ হয়ে যেত, কিছুদিন অফ থাকত, তারপর আবার বিক্রি হতো। কিন্তু এখানে সিম একদম চালু থাকা অবস্থায় হঠাৎ Emergency হয়ে গেছে।”
পরবর্তীতে তিনি তার মাকে নিয়ে সিম তুলতে গেলে কাস্টমার কেয়ার থেকে জানানো হয়—
“এই সিম এখন আপনার মায়ের নামে নেই।”
অথচ ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত ডায়াল কোড দিয়ে চেক করলে সিমটি তার মায়ের নামেই ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
📄 প্রমাণ:
ভুক্তভোগীর কাছে রয়েছে—
পুরোনো নষ্ট সিম কার্ড
সর্বশেষ সিম রিপ্লেসমেন্টের রসিদ
📢 যোগাযোগ:
ঘটনার পর বিকাশের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিকাশ অভিযোগ গ্রহণ করে টিকিট ওপেন করেছে এবং যেসব নম্বরে টাকা গেছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করেছে।
মোবাইল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করা হলেও এখনো সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া বিষয়টি বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
⚖️ বর্তমান অবস্থা:
এই ঘটনার ফলে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন—
“এটা আমাদের ব্যবসার টাকা ছিল। ঈদের আগে মালামাল কেনার টাকা, গ্রাহকদের পেমেন্ট—সব চলে গেছে। এখন আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ।”
🗣️ স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন—
“ফিঙ্গারপ্রিন্ট করা সিম যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ?”
আরেকজন বলেন—
“ব্যবসার পেমেন্ট সিম যদি এভাবে হ্যাক হয়, তাহলে আমরা কেউই নিরাপদ না।”
অনেকেই বিকাশ লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ডিজিটাল লেনদেন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল এই সময়ে এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং তার অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন—
“আজ আমার সাথে হয়েছে, কাল অন্য কারও সাথে হতে পারে। বিষয়টা এখনই থামানো দরকার।”
মন্তব্য করুন